Freelancer-এর e-Return প্রস্তুত করতে কাজের ধরন, মোট আয়, খরচ, ব্যাংকে আসা টাকা এবং অব্যাহতির যোগ্যতা আলাদা করে দেখুন। বিদেশি ক্লায়েন্ট টাকা পাঠালেই সব আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে করমুক্ত হয় না। আবার ব্যাংকে পাওয়া net amount-ই সব সময় কাজের মোট আয় নয়। Invoice, platform statement ও remittance evidence মিলিয়ে হিসাব তৈরি করলে এই দুই বিভ্রান্তি কমে।
এই গাইড বাংলাদেশে থেকে ব্যক্তি হিসেবে অনলাইন সেবা দেওয়া করদাতার জন্য। বিদেশে চাকরি করা প্রবাসী বা limited company-এর করব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ের আগে কাজের ধরন লিখুন
আপনি software তৈরি করেন, design করেন, consultancy দেন, অনলাইনে পড়ান, নাকি পণ্য বিক্রি করেন? একই marketplace-এ কাজ হলেও আয়ের প্রকৃতি এক নাও হতে পারে।
| আপনার প্রশ্ন | যে তথ্য প্রস্তুত করবেন |
|---|---|
| কী কাজ করেছি? | চুক্তি, কাজের বিবরণ ও invoice |
| কার জন্য করেছি? | ক্লায়েন্টের পরিচয় ও দেশ |
| কত আয় হয়েছে? | কাজভিত্তিক billing ও আয় স্বীকৃতির হিসাব |
| কত টাকা পেয়েছি? | Platform payout, wallet ও bank receipt |
| অব্যাহতি চাই কেন? | প্রযোজ্য বিধান, সেবার মিল ও শর্তের প্রমাণ |
নিয়মিত পেশাগত কাজের হিসাব প্রস্তুতে Business e-Return গাইড সহায়ক হবে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট তৈরির আয় কখন অব্যাহতিপ্রাপ্ত?
NBR-এর ২০২৬–২৭ নির্দেশিকায় তালিকাভুক্ত ব্যবসার মধ্যে freelancing ও content creation রয়েছে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারিত ব্যক্তির এই ব্যবসার আয় অব্যাহতির আওতায় আসতে পারে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সকল আয় শতভাগ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার শর্তে। নির্দেশিকার অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের তালিকা দেখুন।
তাই কাজের প্রকৃতি, করদাতার যোগ্যতা ও আয় গ্রহণের প্রমাণ একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। অনলাইন পণ্য বিক্রিসহ ভিন্ন ধরনের আয় আলাদা শনাক্ত করুন। Platform বা wallet ব্যবহার করলেই ব্যাংক ট্রান্সফারের শর্ত পূরণ হয়েছে ধরে নেবেন না; payout ও ব্যাংকে প্রাপ্তির ধারাবাহিক প্রমাণ রাখুন।
কোন documents রাখবেন
- Client contract, work order বা কাজ গ্রহণের প্রমাণ।
- Invoice, delivery record এবং বাতিল কাজ বা refund-এর তথ্য।
- Platform earnings, service fee ও payout statement।
- Payment account এবং স্থানীয় ব্যাংকের statement।
- Bank remittance বা encashment certificate, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
- Software subscription, internet ও কাজের অন্যান্য খরচের bill ও payment evidence।
- ল্যাপটপ বা যন্ত্রপাতির ক্রয়রসিদ এবং ব্যবহারের তথ্য।
- আগের রিটার্ন, সম্পদ ও দায়ের হিসাব।
কোনো কাগজে কাজের নাম “service” লেখা থাকলে বিস্তারিত invoice দিয়ে তার প্রকৃতি বোঝান। রিটার্নের পূর্ণ কাগজপত্রের তালিকা দিয়ে বাকি প্রস্তুতি মিলিয়ে নিন।
Invoice থেকে ব্যাংক পর্যন্ত একটি মিলের উদাহরণ
ধরা যাক, একটি কাজের invoice ১,০০০ ডলার। Platform fee ১০০ ডলার, payout ৯০০ ডলার। ব্যাংকের নথিতে প্রতি ডলারের conversion ১২০ টাকা এবং আলাদা charge ৫০০ টাকা।
| বিবরণ | অঙ্ক |
|---|---|
| Invoice | ১,০০০ ডলার |
| Platform fee | ১০০ ডলার |
| Payout | ৯০০ ডলার |
| Conversion-এর পর টাকা: ৯০০ × ১২০ | ১,০৮,০০০ |
| Bank charge | ৫০০ |
| Net bank credit | ১,০৭,৫০০ |
এটি টাকা আসার হিসাব মেলানোর উদাহরণ, চূড়ান্ত করযোগ্য মুনাফা নয়। Invoice ও payout-এর তারিখ আলাদা হলে আয় স্বীকৃতি এবং বিনিময় হারের হিসাব আলাদাভাবে প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংকে ১,০৭,৫০০ টাকা এসেছে বলে invoice-এর মোট আয়ও ওই অঙ্ক ধরে ফেলবেন না। আবার একই আয় platform, wallet ও স্থানীয় ব্যাংকে তিনবার গণনা করবেন না।
খরচ ও ব্যক্তিগত উত্তোলন আলাদা করুন
কাজের সফটওয়্যারের বিল এবং পরিবারের বাজার খরচ একই ধরনের ব্যয় নয়। হিসাবের সুবিধার জন্য খরচের তালিকায় “কাজের”, “ব্যক্তিগত” ও “যাচাই প্রয়োজন” তিনটি কলাম রাখুন। এটি প্রাথমিক বাছাই; কোন খরচ করের হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হবে, তা আলাদা সিদ্ধান্ত।
ল্যাপটপের দাম, platform fee এবং বাসার internet bill এক লাইনে যোগ করে পুরোটা ব্যবসার খরচ দাবি করবেন না। দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ, যৌথ ব্যবহার ও ব্যক্তিগত অংশের তথ্য আলাদা রাখুন।
e-Return-এ তথ্য দেওয়ার ক্রম
- নিজের আয়বর্ষের কাজভিত্তিক আয় ও প্রাপ্তির তালিকা সম্পূর্ণ করুন।
- সেবার প্রকৃতি অনুযায়ী আয়ের খাত নির্ধারণ করুন।
- অব্যাহতির যোগ্য অংশ থাকলে প্রমাণসহ আলাদা হিসাব করুন; সেটিকে শূন্য আয় হিসেবে বাদ দেবেন না।
- করযোগ্য অংশের আয় ও অনুমোদনযোগ্য খরচ মেলান।
- উৎসে কর কাটা থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট দাবি পরীক্ষা করুন।
- প্রযোজ্য সম্পদ বিবরণীতে ব্যাংক, payment account, যন্ত্রপাতি ও দায়ের তথ্য মিলিয়ে নিন।
- জীবনযাপনের ব্যয় ও সম্পদ বৃদ্ধির অর্থের উৎস মিলিয়ে Preview দেখুন।
পোর্টালের ব্যবহার জানতে e-Return Submission Guide এবং অর্থের উৎস মেলাতে Source of Fund গাইড দেখুন।
জমা দেওয়ার আগে পাঁচটি প্রশ্ন
- নিজের দুই হিসাবে transfer-কে নতুন আয় দেখিয়েছি?
- ক্লায়েন্টের refund ও platform fee-এর প্রমাণ আছে?
- অব্যাহতির দাবি কাজের প্রকৃতির সঙ্গে মেলে?
- নতুন ল্যাপটপ, FDR বা অন্য সম্পদের টাকা কোথা থেকে এসেছে বোঝানো যায়?
- আগের বছরের closing balance ও বর্তমান opening balance মেলে?
সাধারণ প্রশ্ন
সব টাকা দেশে না আনলে হিসাব বাদ দেওয়া যাবে?
শুধু দেশে আসা টাকা দিয়ে তালিকা সীমিত করবেন না। অর্জিত আয়, পাওনা ও বিদেশি payment account-এর স্থিতি প্রস্তুত রাখুন; কর ও disclosure-এর প্রযোজ্যতা সেগুলোসহ নির্ধারণ করুন।
আয় অব্যাহতিপ্রাপ্ত হলে রিটার্নও লাগবে না?
আয়ের অব্যাহতি ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা পৃথক বিষয়। নিজের TIN, আয় ও প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত মিলিয়ে দেখুন।
ব্যাংকের remittance certificate-ই কি যথেষ্ট?
এটি টাকা আসার প্রমাণে সাহায্য করে। কী কাজ করে আয় হয়েছে, তা বোঝাতে চুক্তি, invoice ও platform record-ও রাখুন।
আপনার কাজ ও টাকার হিসাব মিলিয়ে নিন
একাধিক platform, অনলাইন আয়ের ভিন্ন উৎস বা অব্যাহতির শর্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলে documentsসহ VATCONS BD-এর রিটার্ন প্রস্তুতি সহায়তা নিন।
তথ্যসূত্র: আয়কর আইন ২০২৩, ষষ্ঠ তফসিল, অংশ ১, অনুচ্ছেদ ২১ এবং NBR আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭। সূত্র দেখা হয়েছে: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অব্যাহতির সিদ্ধান্ত সেবার প্রকৃতি, লেনদেন ও প্রযোজ্য শর্তের ওপর নির্ভরশীল।


