প্রথমবার e-TIN Registration করতে যাচ্ছেন? শুরুতেই নিশ্চিত করুন, আপনার নামে আগে TIN নেওয়া হয়নি। তারপর নিজের পরিচয়ের সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারি পোর্টালের নিবন্ধনপদ্ধতি অনুসরণ করুন। শুধু User ID তৈরি করা এবং TIN সনদ পাওয়া দুটি আলাদা ধাপ; অ্যাকাউন্ট খোলার পরও করদাতার তথ্য পূরণ করতে হয়।
এই গাইড কাদের জন্য?
বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র আছে এবং প্রথমবার নিজের TIN নিতে চান, তাঁর প্রস্তুতির জন্য এই লেখা। কোম্পানি, ফার্ম, অপ্রাপ্তবয়স্ক বা NID-বিহীন ব্যক্তির তথ্যের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি না মিললে অন্য শ্রেণি বেছে আবেদন করবেন না।
e-TIN Registration-এর আগে প্রস্তুতি
NBR-এর FAQ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নাম, বৈধ NID নম্বর এবং NID অনুযায়ী জন্মতারিখ প্রয়োজন। পরিচয়ের তথ্য আগে মিলিয়ে রাখুন।
- নিজের সচল মোবাইল ও ইমেইল ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখুন।
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা গুছিয়ে লিখে রাখুন।
- চাকরি, পেশা বা ব্যবসার প্রকৃত তথ্য প্রস্তুত করুন।
- আগে কোনো নিয়োগকর্তা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে TIN করা হয়েছিল কি না খোঁজ নিন।
ধাপ ১: সরকারি Register পাতা খুলুন
NBR e-TIN Registration পাতায় যান। এখানে User ID, Password, Security Question ও Answer, দেশ, মোবাইল, ইমেইল এবং Verification letters-এর ঘর আছে। মোবাইল নম্বরের পাশে e-TIN Activation Code পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর নিরাপদে রাখুন, প্রকাশ্য নোট বা মেসেঞ্জার গ্রুপে নয়।
ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করে Login করুন
পোর্টালের প্রদর্শিত সক্রিয়করণ নির্দেশনা অনুসরণ করুন। তারপর নিজের User ID ও Password দিয়ে Login করুন। কোড না এলে আগে দেওয়া মোবাইল নম্বর যাচাই করুন; একই কাজ বারবার করে নতুন নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির চেষ্টা করবেন না।
ধাপ ৩: করদাতার তথ্য পূরণ করুন
প্রবেশের পরে প্রযোজ্য TIN আবেদনের অংশে নিজের করদাতার ধরন ও পরিচয়ের তথ্য দিন। পর্দায় চাওয়া তথ্য নথি দেখে পূরণ করুন। ব্যক্তিগত TIN করতে গিয়ে কোম্পানি বা অন্য শ্রেণি বেছে ফেলবেন না।
পরিচয়ের তথ্য না মিললে আন্দাজ করে জন্মতারিখ বা নাম বদলে দেবেন না। কোন তথ্য গ্রহণ হচ্ছে না সেটি লিখে রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সহায়তা নিন।
ধাপ ৪: জমা দেওয়ার আগে আবার মিলান
- নাম ও জন্মতারিখ পরিচয়ের নথি অনুযায়ী হয়েছে?
- NID নম্বরে কোনো অঙ্ক বাদ পড়েনি?
- ঠিকানা, পেশা ও যোগাযোগের তথ্য নিজের?
- করদাতার শ্রেণি সঠিক?
পোর্টালে পর্যালোচনা বা ঘোষণা দেখালে পড়ে তারপর আবেদন সম্পন্ন করুন। অন্যের ফর্ম দেখে তাঁর তথ্য কপি করবেন না।
ধাপ ৫: সনদ ও অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ করুন
সনদ ইস্যু হলে কপি সংরক্ষণ করুন। শুধু মোবাইলে ছবি রাখার বদলে পাঠযোগ্য ফাইল রাখুন। ভবিষ্যতে কপি লাগলে প্রথমে এই বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।
আগে TIN থাকলে কী করবেন?
কপি হারানোকে নতুন নিবন্ধনের কারণ ধরবেন না। সরকারি পোর্টালে Forgot Password এবং Request User ID ব্যবস্থা আছে। বিদ্যমান TIN-এর তথ্য নিয়ে উপযুক্ত পথ অনুসরণ করুন।
TIN পেলেই কি কাজ শেষ?
পরবর্তী সময়ে রিটার্ন দাখিলের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় নথি এবং তথ্য হালনাগাদের বিষয়ও বুঝে রাখুন। নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল এবং কর পরিশোধকে একই কাজ ভাববেন না। আপনার পরিস্থিতির দায়িত্ব জানতে নিচের সংশ্লিষ্ট গাইড পড়ুন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
e-TIN ও e-Return Registration কি একই?
উদ্দেশ্য আলাদা। e-TIN করদাতার নিবন্ধনসংক্রান্ত; e-Return আয়কর রিটার্নের ব্যবস্থা। একটির কাজ শেষ করলেই অন্যটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে ধরে নেবেন না।
কাউকে দিয়ে করালে কী নিজের কাছে রাখব?
সনদের কপি, User ID এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখুন।
সরকারি তথ্যসূত্র
NBR Registration ফর্ম এবং NBR Income Tax FAQ-এর e-TIN ও প্রয়োজনীয় তথ্য অংশ।
সহায়তা প্রয়োজন হলে
প্রথমবার TIN আবেদনে করদাতার ধরন বা প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে দ্বিধা থাকলে VATCONS BD-এর নিবন্ধন সহায়তা সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রথমে সমস্যাটি জানান; পাসওয়ার্ড বা OTP পাঠাবেন না। VATCONS BD-এর সেবা ও যোগাযোগ দেখুন।
আরও পড়ুন
TIN থাকলে রিটার্ন দাখিলের দায়িত্ব কী?
তথ্যসূত্র দেখা হয়েছে: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পোর্টালের পর্দা ও নির্দেশনা পরিবর্তিত হলে সেখানকার বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

